টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ইতিহাস গবেষণায় এআই: ইথাকা ও ভিসুভিয়াস চ্যালেঞ্জের গল্প

এআই মানেই ভবিষ্যৎ, এমনটাই আমরা ভাবি। কিন্তু এখন ইতিহাস গবেষণায় এআই হাজার বছরের পুরোনো রহস্যও খুলে দিচ্ছে। ইতিহাসবিদরা কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলে কাজ করছেন। তাঁদের হাতিয়ার ডিপ লার্নিং। সহজ কথায়, এটি মানব মস্তিষ্কের আদলে গড়া নিউরাল নেটওয়ার্ক, যা বিপুল তথ্য ঘেঁটে ছক ধরে ফেলে। কাজ চলছে তিন ক্ষেত্রে: শিল্পকলার ইতিহাস, প্রাচীন গ্রিক শিলালিপি আর পোড়া পুঁথি।

এই সহযোগিতা আমাদের অতীতের ওপর নতুন আলো ফেলার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।

ইয়ানিস আসায়েল, স্টাফ রিসার্চ সায়েন্টিস্ট, গুগল ডিপমাইন্ড

চটজলদি জেনে নিন

  • ইতিহাস গবেষণায় এআই: ছবির ভেতরের গোপন সূত্র স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাঙ্ক্ট অধ্যাপক ডেভিড স্টর্ক ২০২৩ সালের অক্টোবরে নেচার জার্ন…
  • তাঁর দল রেনেসাঁ থেকে আধুনিক যুগের ১১ হাজার প্রতিকৃতি চিত্র দিয়ে মডেল শেখায়।
  • মডেল ছবির মানুষের মাথার ভঙ্গি মাপে।
  • দেখা যায়, সরল ধারার শিল্পীরা বেশির ভাগ সময় সামনে-মুখ করা ছবি আঁকতেন।

ইতিহাস গবেষণায় এআই: ছবির ভেতরের গোপন সূত্র

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাঙ্ক্ট অধ্যাপক ডেভিড স্টর্ক ২০২৩ সালের অক্টোবরে নেচার জার্নালে লিখেছিলেন, হাজার হাজার শিল্পকর্মে এআই চালালে শিল্প-গবেষণায় সেই কাজই হবে, যা জীববিজ্ঞানে অণুবীক্ষণ যন্ত্র আর জ্যোতির্বিজ্ঞানে টেলিস্কোপ করেছে।

তাঁর দল রেনেসাঁ থেকে আধুনিক যুগের ১১ হাজার প্রতিকৃতি চিত্র দিয়ে মডেল শেখায়। মডেল ছবির মানুষের মাথার ভঙ্গি মাপে। দেখা যায়, সরল ধারার শিল্পীরা বেশির ভাগ সময় সামনে-মুখ করা ছবি আঁকতেন। এক্সপ্রেশনিস্টরা ব্যবহার করতেন অনেক বেশি কোণ। আরেক অপ্রত্যাশিত ফল: আত্মপ্রতিকৃতি দেখে বাঁহাতি শিল্পীদেরও চেনা গেছে। এখন ২০ হাজারের বেশি ছবি নিয়ে কাজ চলছে।

ইথাকা এআই: ভাঙা শিলালিপির ডিজিটাল মেরামত

প্রাচীন গ্রিক শিলালিপি খোদাই করা হতো পাথর, মাটির পাত্র ও ধাতুতে। সময়ের ক্ষয়ে অনেক লেখা মুছে গেছে। ডিপমাইন্ডের ইথাকা সেই ফাঁক ভরতে সাহায্য করে। ২০২২ সালের মার্চে চালু হওয়া এই প্রকল্পে আছে ভেনিসের কা’ ফোসকারি বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড এবং এথেন্স ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস।

ইথাকা তিনটি কাজ করে:

  • ভাঙা লেখার হারানো অংশ ফিরিয়ে আনা
  • শিলালিপিটি কোথাকার, তা আন্দাজ করা
  • কোন সময়ের, তা অনুমান করা

মডেলটি প্রশিক্ষণ পেয়েছে ৭৮,৬০৮টি শিলালিপিতে, যা ১,৭৮,৫৫১টির PHI ডেটাসেট থেকে বাছাই করা। ডিপমাইন্ডের দল জানায়, বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদরা একা কাজ করে ২৫% নির্ভুল ছিলেন; ইথাকার সাহায্যে তা ৭২%। ইতিহাস গবেষণায় এআই কতটা কাজে লাগে, এটাই তার জোরালো উদাহরণ। এখন সপ্তাহে ৩০০-র বেশি কোয়েরি আসে, আর বেলজিয়ামের ঘেন্টের কলেজগুলো এর ওপর ভিত্তি করে এআই-সহায়ক ইতিহাস পাঠক্রম বানাচ্ছে।

ইতিহাস গবেষণায় এআই-এর সবচেয়ে নাটকীয় সাফল্য

৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস অগ্ন্যুৎপাতে পম্পেইয়ের পাশাপাশি হারকিউলেনিয়ামও ২০ মিটার গরম ছাইয়ের নিচে চাপা পড়ে। ১৮ শতকে সেখানকার এক গ্রন্থাগারে মেলে ৮০০ পোড়া পাপিরাস পুঁথি। ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বেশির ভাগই আজও বন্ধ, রাখা আছে প্যারিসের ইনস্টিটিউ দ্য ফ্রান্সে।

কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেন্ট সিলস ও স্টিফেন পার্সনস দুটি বন্ধ পুঁথির সিটি স্ক্যান করান। ছেঁড়া টুকরোয় দেখা যাওয়া কালির ছবি দিয়ে মডেলকে কালি চিনতে শেখানো হয়। এরপর শুরু হয় ১০ লাখ ডলারের ‘ভিসুভিয়াস চ্যালেঞ্জ’।

২০২৩ সালের অক্টোবরে স্পেসএক্সের ইন্টার্ন লুক ফারিটর প্রথম শব্দটি পড়েন, জেতেন ৪০ হাজার ডলার। শব্দটি ‘পোরফিরাস’, প্রাচীন গ্রিক ভাষায় অর্থ বেগুনি। ইউসেফ নাদের ও কেসি হ্যান্ডমার পান ১০ হাজার ডলার করে। পার্সনসের কাছে হারকিউলেনিয়ামই এখন ‘ধ্রুবতারা’।

 

ইতিহাস গবেষণায় এআই মানুষের জায়গা নিচ্ছে না। ইথাকার ফল বলছে, ইতিহাসবিদ আর এআই একসঙ্গে কাজ করলে ফল অনেক ভালো হয়।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ