যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব এআই স্ট্যান্ডার্ড গড়ার আর্জি OpenAI-এর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই বড় একটা প্রস্তাব দিল OpenAI। সোমবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, ফ্রন্টিয়ার এআই বা সবচেয়ে উন্নত এআই সিস্টেমের জন্য বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড তৈরির নেতৃত্বে থাকা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। এই OpenAI এআই স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তাবে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে "রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্ট" বা RSI-এর ওপর — অর্থাৎ এমন এআই সিস্টেম, যা নিজে থেকেই নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে পারে।
চটজলদি জেনে নিন
- কেন হঠাৎ এই দাবি?
- নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এআই এবার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
- এর কারণ, OpenAI-প্রধান স্যাম অল্টম্যানসহ একাধিক শিল্পনেতা সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি সমন্বিতভাবে কমানোর ডাক দিয়েছেন।
- তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে এটি নিজে থেকেই নিজেকে উন্নত করবে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

কেন হঠাৎ এই দাবি?
নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এআই এবার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এর কারণ, OpenAI-প্রধান স্যাম অল্টম্যানসহ একাধিক শিল্পনেতা সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি সমন্বিতভাবে কমানোর ডাক দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে এটি নিজে থেকেই নিজেকে উন্নত করবে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
OpenAI ঠিক কী চাইছে
ব্লগ পোস্টে OpenAI লিখেছে —
“প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি হলো, অ্যালাইনমেন্ট গবেষণা এবং তার প্রয়োগ যেন সবসময় সক্ষমতার চেয়ে এগিয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করা।”
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রেরই এই এআই নিয়মকানুন নেতৃত্বের সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গায় থাকার কারণ তাদের প্রযুক্তি শিল্প এখনই সবচেয়ে এগিয়ে, আর অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও দেশটির প্রভাব যথেষ্ট। তবে OpenAI স্পষ্ট করেছে, এই মানদণ্ড কোনো লাইসেন্স বা বাধ্যতামূলক অনুমোদন ব্যবস্থা হবে না — কোন দেশ কীভাবে এটি নিজেদের আইনে যুক্ত করবে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
প্রস্তাবিত মানদণ্ডে কী কী থাকতে পারে
- RSI-সংক্রান্ত অগ্রগতি পরিমাপের পদ্ধতি
- কোন স্বয়ংক্রিয় গবেষণা প্রক্রিয়ায় সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নজরদারি দরকার, তার নির্দেশিকা
- দুর্ঘটনা বা ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা শ্রেণিবদ্ধ করে রিপোর্ট করার অভিন্ন ব্যবস্থা
উড়োজাহাজ ও আর্থিক খাতের উদাহরণ টেনে OpenAI বলেছে, দেশগুলো জাতীয় কর্তৃত্ব না ছেড়েও এভাবে প্রযুক্তিগত মান ভাগ করে নিতে পারে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন CAISI (Center for AI Standards and Innovation)-কে ভিত্তি ধরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের এআই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছে তারা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা
আগামী বুধবার স্যাম অল্টম্যান ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এআই ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিফ করবেন। সেপ্টেম্বরে পরিষদের সভাপতিত্বে থাকা ফ্রান্স এই বৈঠক ডেকেছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ফরাসি মন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে প্রথমবার এআই ঝুঁকি নিয়ে বৈঠকে চীন বলেছিল, এই প্রযুক্তি যেন “লাগামছাড়া ঘোড়া” না হয়ে ওঠে, আর যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল যেন এআই মানুষের কণ্ঠ রোধ করার হাতিয়ার না হয়। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এখনও পর্যন্ত এআই উন্নয়নের গতি কমানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।











