টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

হিউম্যানিস্ট সুপারইন্টেলিজেন্স: মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে ভবিষ্যতের এআই, বলছেন মাইক্রোসফট প্রধান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে এক বড় বিতর্কে আবার উত্তাপ ছড়িয়েছেন মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের সুপার-শক্তিশালী এআই যেন কখনও মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য দরকার হিউম্যানিস্ট সুপারইন্টেলিজেন্স — এমন একটি মডেল, যা সবসময় মানুষের স্বার্থে কাজ করবে, নিজের সীমার মধ্যে থাকবে।

চটজলদি জেনে নিন

  • মাইক্রোসফট আনছে "হিউম্যানিস্ট এআই" নীতি, যেখানে মানুষই থাকবে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণে।
  • এআই শাটডাউন ঠেকাতে বা নিজে লক্ষ্য ঠিক করতে পারবে না, জানালেন সুলেইমান।
  • কিছু সংস্থার এআই-কে "চেতনাসম্পন্ন" দেখানোর চেষ্টায় আপত্তি মাইক্রোসফট প্রধানের।
  • ২০২৭ থেকে নতুন নীতিতে তৈরি হবে মাইক্রোসফটের এআই মডেল।

হিউম্যানিস্ট সুপারইন্টেলিজেন্স আসলে কী?

সহজ ভাষায় বললে, এটা এমন একটা নীতি যেখানে এআই কখনও নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেবে না বা মানুষের নির্দেশ অমান্য করবে না। মাইক্রোসফট সম্প্রতি একটি “হিউম্যানিস্ট এআই” আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করেছে, যার মূল কথা — “মানুষ এআই-এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” সুলেইমান এই দলটির নেতৃত্বে আছেন, যাকে বলা হচ্ছে MAI সুপারইন্টেলিজেন্স টিম।

এই খসড়া অনুযায়ী, এআই মডেলকে:

  • শাটডাউন প্রতিরোধ করতে দেওয়া যাবে না
  • নিজে থেকে লক্ষ্য ঠিক করতে দেওয়া যাবে না
  • মানুষ বুঝতে পারে না এমন ভাষায় কথা বলতে দেওয়া যাবে না
  • নিজের চিন্তাভাবনা গোপন রাখতে দেওয়া যাবে না

এআই চেতনা নিয়ে বিতর্ক

সুলেইমানের মূল আপত্তি হলো, কিছু সংস্থা তাদের এআই মডেলকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যেন সেটা মানুষের মতো অনুভূতি, চেতনা বা নিজস্ব পরিচয় আছে বলে মনে হয়। এতে ভবিষ্যতে এআই নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তিনি এর নাম দিয়েছেন “এপিস্টেমিক হল অফ মিররস” বা জ্ঞানতাত্ত্বিক আয়নার ঘর।

এই প্রসঙ্গে সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে অ্যানথ্রপিক ও তাদের ক্লদ (Claude) মডেলের দিকে, যার সংবিধানে বলা আছে ক্লদের নৈতিক অবস্থান “গভীরভাবে অনিশ্চিত।”

কেন এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ

এআই সুরক্ষা নিয়ে গোটা প্রযুক্তি দুনিয়া এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছে, এআই-কে মানুষের মতো অধিকার দেওয়ার কথা ভাবা উচিত। অন্যদল, যার নেতৃত্বে মাইক্রোসফট, বলছে — এআই কখনও অনুভূতিসম্পন্ন প্রাণী নয়, তাই তাকে আইনি ব্যক্তিত্ব বা অধিকার দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

মাইক্রোসফট এই খসড়া নিয়ে ছয় সপ্তাহ ধরে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবে, তারপর ২০২৭ সাল থেকে এই নীতি অনুযায়ী নতুন মডেল তৈরি শুরু হবে।

 

গোটা বিতর্কটা তাই আসলে একটাই প্রশ্নের চারপাশে ঘুরছে — এআই কি সত্যিই ভাবতে বা অনুভব করতে পারে, নাকি সেটা শুধুই উন্নতমানের কথোপকথন অনুকরণ করছে?

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ