মিউজ এআই এজেন্টকে অ্যামাজনে ঢুকতে দিল না অ্যামাজনঃ মেটার সঙ্গে মতবিরোধ?
রবিবার রাতে অ্যামাজন জানিয়ে দিয়েছে, মেটার নতুন মিউজ এআই এজেন্ট আর তাদের সাইটে গ্রাহকের হয়ে কেনাকাটা করতে পারবে না। মিউজ বাজারে আসার মাত্র ১২ দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত। অ্যামাজনের দাবি, গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
চটজলদি জেনে নিন
- মিউজ এআই এজেন্ট আসলে কী?
- এআই এজেন্ট মানে এমন সফটওয়্যার, যা শুধু প্রশ্নের জবাব দেয় না, আপনার হয়ে কাজও করে দেয়।
- মেটা ৮ সেপ্টেম্বর মিউজ চালু করেছে।
- ইমেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, রেস্তোরাঁ বা শপিং, সবকিছুর সঙ্গেই এটি জুড়তে পারে।

মিউজ এআই এজেন্ট আসলে কী?
এআই এজেন্ট মানে এমন সফটওয়্যার, যা শুধু প্রশ্নের জবাব দেয় না, আপনার হয়ে কাজও করে দেয়। মেটা ৮ সেপ্টেম্বর মিউজ চালু করেছে। ইমেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, রেস্তোরাঁ বা শপিং, সবকিছুর সঙ্গেই এটি জুড়তে পারে। কোনো সাইটের নিজস্ব সংযোগ-ব্যবস্থা (এপিআই) না থাকলে মিউজ মানুষের মতোই ব্রাউজারে ঢুকে কাজ সারে। এক সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকার অ্যাপ স্টোরে ফ্রি অ্যাপের তালিকায় এটি চ্যাটজিপিটিকে টপকে যায়।
অ্যামাজনের আপত্তি কোথায়?
অ্যামাজনের অভিযোগ তিনটি:
- মিউজ এআই এজেন্ট অ্যামাজনের দোকানে ঢুকবে, মেটা আগে তা জানায়নি।
- ব্রাউজ করার সময় এজেন্ট নিজের পরিচয় জানায় না।
- গ্রাহকের লগইন তথ্য, অর্থাৎ ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড, সে জমিয়ে রাখছে বলে মনে হচ্ছে।
অ্যামাজন প্রথমে মেটাকে অনুরোধ করেছিল, তারা যেন নিজেরাই অ্যামাজনকে মিউজের তালিকা থেকে বাদ দেয়। কাজ হয়নি। এখন মিউজে কেনাকাটা করতে গেলে পপআপে দেখা যাচ্ছে, অনুমতি ছাড়া এআই এজেন্টের ঢোকা অ্যামাজনের ব্যবহারের শর্ত ভাঙে।
তবে মেটা আগেই জানিয়েছে, মিউজ এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট মেথড দেখতে পায় না; তথ্য সুরক্ষিত স্টোরেজে থাকে। এই ঘটনায় মেটা রবিবার রাত পর্যন্ত মন্তব্য করেনি।
দুই কোম্পানি তো ব্যবসার বন্ধুও
২০২৩ সাল থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই অ্যামাজনের পণ্য কেনা যায়। এপ্রিলে মেটা অ্যামাজনের ক্লাউডে এআই কাজ চালাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে।
মিউজ এআই এজেন্ট ঘিরে বড় লড়াই
আসল প্রশ্ন, এজেন্টিক শপিংয়ে (ক্রেতার হয়ে এআই-ই পণ্য বেছে কিনে ফেলা) ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্কটা থাকবে কার হাতে? গত বছর অ্যামাজনের বিজ্ঞাপন-আয় ছিল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই আয় নির্ভর করে মানুষ সাইটে ঘুরে স্পন্সরড পণ্য দেখার ওপর।
এর আগে অ্যামাজন পারপ্লেক্সিটির কমেট ব্রাউজারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, গুগল ও ওপেনএআইয়ের শপিং এজেন্টও আটকাতে উদ্যোগ নিয়েছে। মার্চে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মিললেও ৪ আগস্ট আপিল আদালত তা বাতিল করে। রায়ের যুক্তি, অ্যামাজনে ঢুকছেন আসলে ব্যবহারকারীই, এআই কোম্পানি নয়। তবে চুক্তি ও ব্যবহারের শর্তের পথ খোলা ছিল, এবার অ্যামাজন সেটাই ধরেছে।
নিজেদের এআই শপিং এজেন্টের বেলায় অ্যামাজনের অবস্থান আলাদা: তাদের “বাই ফর মি” ফিচার পরিচয় জানিয়ে কাজ করে, ব্র্যান্ডরা চাইলে বাদ থাকতে পারে। ফোর্বস জানাচ্ছে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসির মতে গত ১২ মাসে ৩৫ কোটির বেশি ক্রেতা আলেক্সা ফর শপিং ব্যবহার করেছেন।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা মেটার সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে; আইনি পথে যাবে কি না, তা বলেনি। মিউজ এআই এজেন্টের এই ঘটনা স্পষ্ট করছে: এজেন্ট যতই বাড়ুক, কোন দরজা খুলবে তা ঠিক করবে ক্রেতার অ্যাকাউন্ট যাদের হাতে।











