নেট জিরো পোর্টাল: স্বেচ্ছায় জানানো যাবে কার্বন নিঃসরণের হিসাব
জলবায়ু নিয়ে বড় বড় কথা তো অনেকেই বলে। কিন্তু কে সত্যিই কতটা করছে, তার হিসাব এক জায়গায় পাওয়া যায় না। সেই ফাঁক মেটাতেই কেন্দ্রীয় সরকার চালু করল নেট জিরো পোর্টাল, সঙ্গে একটি নতুন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড।
চটজলদি জেনে নিন
- বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুম্বইয়ে বিশ্ব ওজোন দিবসের অনুষ্ঠানে দুটি প্ল্যাটফর্মেরই উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত…
- তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় নেওয়া জলবায়ু অঙ্গীকার আর জাতীয় মিশনের অগ্রগতি এই প্রথম কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থায় এল।
- নেট জিরো পোর্টাল আসলে কী?
- আগে একটা শব্দ বুঝে নেওয়া যাক।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুম্বইয়ে বিশ্ব ওজোন দিবসের অনুষ্ঠানে দুটি প্ল্যাটফর্মেরই উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় নেওয়া জলবায়ু অঙ্গীকার আর জাতীয় মিশনের অগ্রগতি এই প্রথম কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থায় এল।
নেট জিরো পোর্টাল আসলে কী?
আগে একটা শব্দ বুঝে নেওয়া যাক। “নেট জিরো” মানে, যতটা ক্ষতিকর গ্যাস ছাড়া হচ্ছে, ততটাই কমানো বা বাতাস থেকে সরিয়ে ফেলা, যাতে হিসাবের শেষে ফল দাঁড়ায় শূন্য।
এই নেট জিরো পোর্টালে দেশের যে কোনও ক্ষেত্রের সংস্থা নিজে থেকে নাম লেখাতে পারবে। তারা জানাবে গ্রিনহাউস গ্যাসের (জিএইচজি) নিঃসরণ কতটা, ঘোষণা করবে নিজেদের নেট জিরো লক্ষ্য, আর প্রতি বছর জানাবে কতদূর এগোল।
নেট জিরো পোর্টাল: কোন নিঃসরণের হিসাব দিতে হবে?
সংস্থাগুলিকে প্রথম দুই ধরনের হিসাব দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তৃতীয়টি পুরোপুরি ঐচ্ছিক।
- স্কোপ ১: নিজেদের কারখানা বা গাড়ি থেকে সরাসরি যে নিঃসরণ হয়।
- স্কোপ ২: কেনা বিদ্যুৎ ও শক্তি ব্যবহারের কারণে পরোক্ষ নিঃসরণ।
- স্কোপ ৩ (ঐচ্ছিক): সরবরাহকারী থেকে পণ্যের ব্যবহার পর্যন্ত, গোটা ব্যবসার শৃঙ্খলে যে পরোক্ষ নিঃসরণ ঘটে।
সংস্থাগুলি চাইলে নেট জিরোয় পৌঁছনোর পথও জানাতে পারবে। যেমন পরিচ্ছন্ন শক্তিতে বদল, শক্তির সাশ্রয়, নতুন প্রযুক্তি কিংবা কার্বন সরানোর উদ্যোগ। সফলভাবে লক্ষ্য ঘোষণা করলে পরিবেশ মন্ত্রকের (MoEFCC) কাছ থেকে স্বীকৃতি মিলবে। সব ঘোষণাই জনসমক্ষে দেখা যাবে। মন্ত্রকের ভাষায়, এটি দেশের স্বেচ্ছাকৃত নেট জিরো উদ্যোগের একটি সংহত ভান্ডার। পোর্টালের ঠিকানা: netzeroindia.moef.gov.in
NAPCC ড্যাশবোর্ডে কী আছে?
NAPCC-র পুরো নাম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, অর্থাৎ জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনা। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া এই পরিকল্পনায় আটটি জাতীয় মিশন আছে: সৌরশক্তি, শক্তি দক্ষতা, টেকসই বসতি, জল, হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র, সবুজ ভারত, টেকসই কৃষি এবং জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত জ্ঞান।
নতুন ড্যাশবোর্ডে এই মিশনগুলির তথ্য ও নির্দিষ্ট সূচক এক জায়গায় দেখা যাবে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তর সুসংহতভাবে নজর রাখতে পারবে, কোথায় কাজ আটকে আছে ধরা পড়বে, আর জলবায়ু পদক্ষেপের মূল্যায়ন হবে তথ্যের ভিত্তিতে। মন্ত্রক জানিয়েছে, প্যারিস চুক্তির অধীনে ভারতের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে দেশের কাজের যোগসূত্রও এতে জোরদার হবে। ঠিকানা: napccindia.moef.gov.in
ভারতের লক্ষ্য কী?
- ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো নিঃসরণ
- ২০৩০-এর মধ্যে জিডিপির নিঃসরণ তীব্রতা (প্রতি একক আয়ে কত নিঃসরণ) ২০০৫ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমানো
- ২০৩০-এর মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াটে নেওয়া
- ২০৩০-এর মধ্যে শক্তির ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে
বাধ্যতামূলক নয়, এটাই আলাদা
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বড় সংস্থাদের কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং ডিরেক্টিভ অনুযায়ী নিঃসরণের তথ্য দিতেই হয়। ভারতে এমন বাধ্যবাধকতা আপাতত শুধু কিছু নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধির আওতায়। সেই তুলনায় ভারতের নেট জিরো পোর্টাল পুরোপুরি স্বেচ্ছাভিত্তিক। এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বলেছেন, জলবায়ু শাসনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারই এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে।











