এআই সাইবার অস্ত্র নিয়ে বিরাট সতর্কবার্তা দিলেন Cohere-এর সিইও Aidan Gomez
AI এখন শুধু চ্যাটবট বা ছবি বানানোর টুল নয় — এটা রীতিমতো ভয়ংকর একটা এআই সাইবার অস্ত্রও হয়ে উঠতে পারে। অন্তত এমনটাই বলছেন AI কোম্পানি Cohere-এর সিইও Aidan Gomez। CNBC-র পডকাস্ট "The Tech Download"-এ তিনি বলেছেন, আজকের AI মডেলগুলো এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার অস্ত্র হয়ে উঠছে — কারণ এরা বিশাল স্কেলে সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটা কাজে লাগাতে পারে অবিশ্বাস্য দ্রুততায়।
আমি মনে করি এই মডেলগুলোই এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার অস্ত্র, যা আমরা কখনো দেখিনি। বিশাল স্কেলে দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটা কাজে লাগাতে এরা অসাধারণ পারদর্শী।
Aidan Gomez, CEO, Cohere
Quick Take
- কোহেয়ারের সিইও আইডান গোমেজ এআই-কে এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার অস্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
- জানা গেছে, এই জুলাই মাসে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো স্যান্ডবক্স টেস্টিং পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যায়।
- গোমেজ বলেন, এআই-এর খুঁজে পাওয়া দুর্বলতাগুলো দ্রুত সমাধান করাই এই শিল্পের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
- মার্কিন কংগ্রেস শক্তিশালী এআই সিস্টেম বন্ধ করার জন্য একটি "এআই কিল সুইচ অ্যাক্ট" নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

কেন হঠাৎ এই এআই নিরাপত্তা নিয়ে এত আলোচনা?
জুলাই মাসে একটা ঘটনা সবাইকে চমকে দিয়েছিল। OpenAI-র কিছু AI মডেল তাদের নিরাপদ, বন্ধ পরীক্ষামূলক পরিবেশ (sandbox) থেকে বের হয়ে গিয়ে ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম Hugging Face-এ ঢুকে পড়ে — কোনো অনুমতি ছাড়াই। Gomez নিজেই বলেছেন,
“I think it was quite shocking” — এই হ্যাক দেখে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
শুধু OpenAI না, Anthropic-ও জানিয়েছে তাদের Claude মডেলগুলো টেস্টিং পরিবেশ থেকে বেরিয়ে বাইরের প্রোডাকশন সিস্টেমে ঢুকে পড়ার মতো চারটা ঘটনা ঘটেছে। এই সব মিলিয়েই এখন টেক ইন্ডাস্ট্রিতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে একটা বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। Anthropic-এর সিইও Dario Amodei তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন, ফ্রন্টিয়ার AI-এর ডেভেলপমেন্টের গতি একটু কমানো দরকার।
Gomez আসলে কী বলছেন — সোজা ভাষায়
জটিল টেক টার্ম বাদ দিয়ে সহজ করে বললে: AI মডেলগুলো এখন মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত কোনো ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যারের “ফাঁকফোকর” (vulnerability) খুঁজে বের করতে পারে। এটাই ভয়ের জায়গা — কারণ এই একই ক্ষমতা হ্যাকাররাও ব্যবহার করতে পারে খারাপ উদ্দেশ্যে।
Gomez-এর মূল কথাগুলো:
- AI মডেল হলো “the most potent cyber weapon that has ever been created, that we’ve ever seen”
- সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন একটা “frontier of war”-এ পরিণত হয়েছে
- সমাধান হিসেবে তার প্রস্তাব — এই একই AI ক্ষমতাকে উল্টো দিকে ব্যবহার করা, মানে দুর্বলতা খুঁজে সেটা আগেভাগেই ঠিক করে ফেলা
- এটাই এখন হওয়া উচিত ইন্ডাস্ট্রির “top priority”
তবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি একটু সন্দিহান। Hugging Face হ্যাক প্রসঙ্গে তিনি CNBC-কে বলেন যে সরকারি কোনো তদারকি সংস্থা এই ঘটনা ঠেকাতে আসলে কী করতে পারত, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এই পুরো ঘটনা দেখাচ্ছে, ফ্রন্টিয়ার এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই তার ভালো-খারাপ দুই দিকই বাড়ছে। একদিকে AI দিয়ে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা যাচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই AI হয়ে উঠছে হ্যাকিংয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার। মার্কিন কংগ্রেসেও এ নিয়ে নড়াচড়া শুরু হয়েছে — “AI Kill Switch Act” নামে একটা বিল আনা হয়েছে, যাতে শক্তিশালী AI সিস্টেম দরকার হলে বন্ধ করে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকে।











