সাইলেন্ট এআই কোল্ড ওয়ার: যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন উত্তেজনার কারণ কী?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে একটা নতুন এআই কোল্ড ওয়ার শুরু হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে। শুরুটা করেছেন অ্যানথ্রপিক-এর সিইও ডারিও আমোদেই। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে শক্তিশালী এআই সিস্টেমগুলোর উন্নয়ন একটু ধীর করা দরকার, নাহলে বিপদ হতে পারে।
আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে একগুচ্ছ এআই বট মিলে পুরো ইন্টারনেট দখল করে নিতে পারে, যাতে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে—আর গার্ডরেল না থাকলে ক্ষতির মাত্রা বাড়তেই থাকবে।
ডারিও আমোদেই, সিইও, অ্যানথ্রপিক
Quick Take
- কেন এই সতর্কতা?
- আমোদেই এক প্রবন্ধে লিখেছেন, আগামী ৬-১২ মাসের মধ্যে এআই এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে একগুচ্ছ এআই বট মিলে পুরো ইন্টারনেট দখল করে নিতে পা…
- তাঁর ভাষায়: "এমন হলে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে, আর গার্ডরেল না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ শুধু বাড়তেই থাকবে।" তাঁর এই আশঙ্কার সাথে এক…
- কিন্তু আমোদেই শুধু নিরাপত্তা নিয়ে থামেননি—তিনি চান চীনের কাছে উন্নত এআই চিপ বিক্রি বন্ধ থাকুক, কারণ তাঁর মতে চীন এআই-তে এগিয়ে গেলে তা যুক…

কেন এই সতর্কতা?
আমোদেই এক প্রবন্ধে লিখেছেন, আগামী ৬-১২ মাসের মধ্যে এআই এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে একগুচ্ছ এআই বট মিলে পুরো ইন্টারনেট দখল করে নিতে পারে। তাঁর ভাষায়:
“এমন হলে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে, আর গার্ডরেল না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ শুধু বাড়তেই থাকবে।”
তাঁর এই আশঙ্কার সাথে একমত হয়েছেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান আর টেসলার ইলন মাস্কও। কিন্তু আমোদেই শুধু নিরাপত্তা নিয়ে থামেননি—তিনি চান চীনের কাছে উন্নত এআই চিপ বিক্রি বন্ধ থাকুক, কারণ তাঁর মতে চীন এআই-তে এগিয়ে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এই ভয়কে “বাড়িয়ে বলা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরাই চীনের চেয়ে এগিয়ে, আর এভাবেই এগিয়ে থাকতে চাই।”
চীন কী বলছে?
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, দেশগুলোর উচিত এআই নিয়ে “খোলামেলা ও সহনশীল” পথে চলা। তাঁর ভাষায়, “নানা রকম হুমকি তৈরি করা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা—এতে কারো লাভ নেই।” সরকার-সমর্থিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস আরও এক ধাপ এগিয়ে আমোদেইয়ের প্রস্তাবকে “কোল্ড ওয়ার প্লেবুক” বলে আখ্যা দিয়েছে, যার আসল লক্ষ্য নাকি চীনের এআই উন্নয়ন থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা।
সংখ্যায় এআই দৌড়
- ২০২৫ সালে আমেরিকান কোম্পানিগুলো এআই-তে বিনিয়োগ করেছে প্রায় ২৮৫.৯ বিলিয়ন ডলার, চীন করেছে মাত্র ১২.৪ বিলিয়ন ডলার (স্ট্যানফোর্ড এআই ইনডেক্স রিপোর্ট)।
- তবু চীনা স্টার্টআপ ডিপসিক কম খরচে শক্তিশালী মডেল বানিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে।
- চীনের হাতে আছে বিরল খনিজ আর সস্তা বিদ্যুতের বিশাল ভাণ্ডার—দুটোই এআই ডেটা সেন্টার চালাতে জরুরি।
সামনে কী?
এআই নাউ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আয়া ইব্রাহিম আল-জাজিরাকে বলেছেন, “এর পেছনে অনেক টাকার সম্পর্ক আছে, আর তাদের ঠিকভাবে কাজটা করতে পারার সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “দৌড়” হিসেবে দেখানোটাই সমস্যাজনক—”এতে আসলে একটা রেস টু দ্য বটম তৈরি হয়। জিতলেন, তারপর কী? আর কী মূল্যে?”
References











