টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

দিল্লির গণনজরদারি: ৫ সেকেন্ডে চিনে ফেলছে লক্ষ লক্ষ মুখ

দিল্লির রাস্তায় বেরোলে ভাবছেন কেউ আপনাকে চিনতে পারবে না? আবার ভাবুন। রাজধানী জুড়ে বসানো ক্যামেরাগুলো এখন এতটাই স্মার্ট যে আপনার মুখ বা গাড়ির নম্বরপ্লেট দেখেই পুলিশ কয়েক সেকেন্ডে আপনাকে শনাক্ত করে ফেলতে পারে। এটাই দিল্লির নতুন গণনজরদারি ব্যবস্থার আসল চেহারা।

চটজলদি জেনে নিন

  • সেফ সিটি প্রজেক্ট আসলে কী?
  • নামটা শুনতে নিরীহ — "সেফ সিটি প্রজেক্ট"।
  • মহিলাদের নিরাপত্তার কথা বলে চার বছর আগে শুরু হওয়া এই ৮৫৭ কোটি টাকার এআই-নির্ভর প্রকল্প এখন কার্যত একটি বিশাল গণনজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হ…
  • উদ্দেশ্য ছিল অপরাধী ধরা, কিন্তু বাস্তবে এটি সাধারণ নাগরিক আর তাঁদের গাড়িও একইভাবে চিহ্নিত করতে পারে।

সেফ সিটি প্রজেক্ট আসলে কী?

নামটা শুনতে নিরীহ — “সেফ সিটি প্রজেক্ট”। মহিলাদের নিরাপত্তার কথা বলে চার বছর আগে শুরু হওয়া এই ৮৫৭ কোটি টাকার এআই-নির্ভর প্রকল্প এখন কার্যত একটি বিশাল গণনজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল অপরাধী ধরা, কিন্তু বাস্তবে এটি সাধারণ নাগরিক আর তাঁদের গাড়িও একইভাবে চিহ্নিত করতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা?

দিল্লি পুলিশ প্রায় ২০টিরও বেশি সরকারি ডেটাবেস একসঙ্গে জুড়ে একটি “ডেটা লেক” তৈরি করেছে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত-বায়োমেট্রিক তথ্য জমা আছে। এই ব্যবস্থা মেলাতে পারে —

  • ভোটার আইডি (EPIC)
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স (সারথি)
  • গাড়ির রেজিস্ট্রেশন (বাহন)
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • ইন্টারঅপারেবল ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম
  • ভাড়াটে ও গৃহকর্মীর তথ্য, এমনকি আদালতের মামলার রেকর্ড পর্যন্ত

জাপানের সংস্থা NEC এই সিস্টেমের ইন্টিগ্রেটর, আর গুরুগ্রামের Awiros তৈরি করেছে ফেসিয়াল রিকগনিশন ও “অন্বেষণ” নামের রিভার্স ইমেজ সার্চ ইঞ্জিন।

বাস্তব উদাহরণ: দুই ঘণ্টায় ধরা পড়ল অভিযুক্ত

এপ্রিলে এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে দিল্লি বিধানসভার নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েন, একটি তোড়া রেখে পালিয়ে যান। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই সেফ সিটি প্রজেক্টের সাহায্যে পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে — ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে একটি নাকা চেকিংয়ে। এটাই দেখায়, এই গণনজরদারি ব্যবস্থা কতটা দ্রুত ও কার্যকর।

গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ

কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে। এই বিশাল ফেসিয়াল রিকগনিশন ও সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা চলছে কোনও নির্দিষ্ট আইন ছাড়াই, অনেকটা “লিগাল ভ্যাকুয়াম”-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের বিরোধী, যেখানে গোপনীয়তার অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৮০টিরও বেশি থানা এখন এই সিস্টেম ব্যবহারের জন্য প্রায় প্রস্তুত।

 

সোজা কথায় — অপরাধী ধরতে গিয়ে গড়ে উঠেছে এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষও নজরের বাইরে থাকতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ