টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

উসাইন বোল্টের রেকর্ড ভাঙল চীনের হিউম্যানয়েড রোবট

চীনের তৈরি একটি হিউম্যানয়েড রোবট সম্প্রতি দৌড়ের জগতে এক বিস্ময়কর কীর্তি গড়েছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে "টিয়ানগং আল্ট্রা" নামের রোবটটি ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে মাত্র ৮.৬৪ সেকেন্ডে — যা উসাইন বোল্টের ২০০৯ সালের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। রোবটটির গড় গতিবেগ ছিল প্রায় ঘণ্টায় ৪২ কিলোমিটার। তবে মজার বিষয় হলো, এই টিয়ানগং আল্ট্রা রোবট বোল্টের মতো করে দৌড়ায়নি। ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের মতে, রোবট আর মানুষের দৌড়ানোর পদ্ধতি একেবারেই আলাদা।

এটি প্রযুক্তির এক অসাধারণ অগ্রগতি, যেখানে হিউম্যানয়েড রোবট ভারসাম্য ধরে রেখে এমন গতিতে দৌড়াতে পারে, যা মানুষের পক্ষে ধরাই সম্ভব নয়।

জুং মুন-হিয়ন, ক্রীড়াবিজ্ঞান অধ্যাপক, দক্ষিণ কোরিয়ার চুংনাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

চটজলদি জেনে নিন

  • শুরুতে পিছিয়ে, শেষে এগিয়ে বোল্ট স্টার্টিং ব্লক থেকে মাত্র ০.১৪৬ সেকেন্ডে ছুটে বেরিয়েছিলেন।
  • অন্যদিকে টিয়ানগং শুরু করে একেবারে সোজা দাঁড়ানো ভঙ্গিতে, আর প্রথম রেকর্ড দৌড়ে সংকেত বুঝতেই প্রায় এক সেকেন্ড দেরি করে ফেলে।
  • ব্রিগহ্যাম ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিজ্ঞানী ইয়ান হান্টারের হিসাবে, প্রথম পাঁচ মিটারে বোল্ট প্রায় ২ সেকেন্ড এগিয়ে থাকতেন।
  • কিন্তু এরপরই রোবটের সুবিধা কাজ করতে শুরু করে।

শুরুতে পিছিয়ে, শেষে এগিয়ে

বোল্ট স্টার্টিং ব্লক থেকে মাত্র ০.১৪৬ সেকেন্ডে ছুটে বেরিয়েছিলেন। অন্যদিকে টিয়ানগং শুরু করে একেবারে সোজা দাঁড়ানো ভঙ্গিতে, আর প্রথম রেকর্ড দৌড়ে সংকেত বুঝতেই প্রায় এক সেকেন্ড দেরি করে ফেলে। ব্রিগহ্যাম ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিজ্ঞানী ইয়ান হান্টারের হিসাবে, প্রথম পাঁচ মিটারে বোল্ট প্রায় ২ সেকেন্ড এগিয়ে থাকতেন।

কিন্তু এরপরই রোবটের সুবিধা কাজ করতে শুরু করে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গুও ইজিয়ে জানান, রোবটের কোমর ও শরীরের ওপরের অংশ হালকা করে নকশা করা হয়েছে, সঙ্গে উন্নত করা হয়েছে মোটর ও নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার।

মানুষের চেয়ে বেশি পা ফেলা

  • বোল্ট ১০০ মিটার শেষ করেছিলেন মাত্র ৪১ পদক্ষেপে
  • টিয়ানগং তার রেকর্ড দৌড়ে নিয়েছে ৫০-এরও বেশি পদক্ষেপ, তবে প্রতিটি ধাপ মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত

দক্ষিণ কোরিয়ার কোয়াংউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অধ্যাপক পার্ক সুহানের মতে, এই ছোট-ছোট দ্রুত পদক্ষেপ আসলে রোবটের মোটরের সহজাত সক্ষমতা, মানুষের দৌড় নকল করার চেষ্টা নয়। থাইল্যান্ডের মাহিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিজ্ঞানী পারুনচায়া জামক্রাজাং বলেন, ছোট পা ফেলার কারণেই রোবট ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে।

মাংসপেশি নেই, ক্লান্তিও নেই

মানুষ দৌড়ায় পেশি আর টেন্ডনের সাহায্যে, যেখানে গোড়ালি-হাঁটু-কোমরের জোড় শক্তি শোষণ করে আবার ফিরিয়েও দেয়। কাইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্ক হায়ে-ওনের ভাষায়, ইলেকট্রিক মোটর কেবল ঘোরে, পেশির মতো টানতে-প্রসারিত হতে হয় না।

মন্টানা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবযন্ত্রবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ম্যাট বান্ডলের মতে, মানুষ শেষ ২০ মিটারে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু রোবটের সেই সীমাবদ্ধতা নেই।

থামতে গিয়েই বিপত্তি

গতি থাকলেও থামার ক্ষমতায় রোবট এখনো পিছিয়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথম রেকর্ড দৌড় শেষে টিয়ানগং একটি গদিযুক্ত দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে থামে। বান্ডল বলেন, শুধু গতি বাড়িয়ে লাভ নেই, যদি থামার সময় হাড় ভেঙে যায়। জামক্রাজাংও একমত — দিক পরিবর্তন করা বা নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে গতি কমানো, এসব ক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবট গেমস-এর প্রতিযোগীরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ