পরমাণুর ভেতরের রহস্য ভাঙছে এআই: নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে এল স্ট্রিমলাইন প্রকল্প
পরমাণুর কেন্দ্রে থাকা প্রোটন আর নিউট্রনগুলো একসাথে কীভাবে আচরণ করে, তা বহু দশক ধরে পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছে এক বিশাল ধাঁধা। এবার সেই ধাঁধা সমাধানে এগিয়ে এসেছে স্ট্রিমলাইন প্রকল্প — যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর সুপারকম্পিউটার একসাথে কাজ করছে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় নির্ভুলভাবে নিউক্লিয়ার কোয়ান্টাম মেনি-বডি সমস্যার সমাধান করা।
ডঃ আলেসান্দ্রো লোভাতো, আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক
চটজলদি জেনে নিন
- স্ট্রিমলাইন প্রকল্প আসলে কী?
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় ল্যাবরেটরির যৌথ উদ্যোগে চলা এই স্ট্রিমলাইন প্রকল্পে যুক্ত আছে ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি…
- লক্ষ্য একটাই — "নিউক্লিয়ার কোয়ান্টাম মেনি-বডি প্রবলেম" সমাধান করা, অর্থাৎ অনেকগুলো কণা একসাথে কোয়ান্টাম স্তরে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে তা…
- আরগনের বিজ্ঞানী ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক আলেসান্দ্রো লোভাতোর ভাষায়: "এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ নির্…

স্ট্রিমলাইন প্রকল্প আসলে কী?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় ল্যাবরেটরির যৌথ উদ্যোগে চলা এই স্ট্রিমলাইন প্রকল্পে যুক্ত আছে ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জির আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিও। লক্ষ্য একটাই — “নিউক্লিয়ার কোয়ান্টাম মেনি-বডি প্রবলেম” সমাধান করা, অর্থাৎ অনেকগুলো কণা একসাথে কোয়ান্টাম স্তরে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে তা হিসাব করা।
আরগনের বিজ্ঞানী ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক আলেসান্দ্রো লোভাতোর ভাষায়:
“এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে নিউক্লিয়ার কোয়ান্টাম মেনি-বডি সমস্যার সমাধান করা।”
কেন এটা এত কঠিন?
কণার সংখ্যা বাড়লে সম্ভাব্য মিথস্ক্রিয়ার সংখ্যা বাড়ে সূচকীয় হারে (এক্সপোনেনশিয়ালি)। এত হিসাব সামলাতে গিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারও হিমশিম খায়, তাই এতদিন গবেষকরা মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা কণা নিয়েই কাজ করতে পারতেন।
এআই কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করছে
স্ট্রিমলাইন প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে নিউরাল নেটওয়ার্ক — অর্থাৎ ডেটা থেকে প্যাটার্ন চিনে শেখা কম্পিউটার মডেল — যা দিয়ে কোয়ান্টাম “ওয়েভ ফাংশন” তৈরি করা হচ্ছে। ফলাফল রীতিমতো চমকপ্রদ: আগে যেখানে মাত্র ১২টার মতো কণা নিয়ে হিসাব করা যেত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কণায়।
লোভাতোর কথায়, “এটি সত্যিই একটি গেম চেঞ্জা।”
এই কাজে সাহায্য করছে আরগন লিডারশিপ কম্পিউটিং ফ্যাসিলিটির (ALCF) সুপারকম্পিউটার “অরোরা”, যা প্রতি সেকেন্ডে ১০০ কোটি বিলিয়নেরও বেশি (এক কুইন্টিলিয়ন) হিসাব করতে সক্ষম।
কারা যুক্ত আছে এই সহযোগিতায়
- মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ফ্যাসিলিটি ফর রেয়ার আইসোটোপ বিমস (নেতৃত্বদানকারী)
- ফার্মিল্যাব ও ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি
- ফ্লোরিডা স্টেট, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট, ওহাইও স্টেট ও ওহাইও ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ টেনেসি
- আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি
প্রভাব
নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের এই গবেষণা শুধু পরমাণু বোঝার জন্যই নয় — এটা নিউট্রন স্টার (ধসে পড়া তারার ঘনীভূত অবশেষ) এবং নিউট্রিনোর মতো রহস্যময় কণা বোঝার কাজেও সাহায্য করবে। আরগনের ATLAS ফ্যাসিলিটিতে পরীক্ষামূলক ফলাফলের সঙ্গে এই তত্ত্বীয় হিসাব মিলিয়ে দেখা হবে। প্রকল্পটি ডিওই-এর “জেনেসিস মিশনের” সঙ্গেও সংযুক্ত, যার লক্ষ্য এআই দিয়ে বিজ্ঞান গবেষণার গতি বাড়ানো।
লোভাতো শেষে বলেন, “নিউরাল নেটওয়ার্ক নিউক্লিয়ার ফিজিক্স সম্পর্কে কিছুই জানে না — কিন্তু যখন আমরা একে প্রশিক্ষণ দিই, তখন এটা একটা কোয়ান্টাম সিস্টেমের মতো আচরণ করতে শেখে।”
সংক্ষেপে, স্ট্রিমলাইন প্রকল্প দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে এআই আর মানুষের বুদ্ধিমত্তা মিলে বিজ্ঞানের সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলোরও সমাধান বের করা সম্ভব।











