টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

মেটা এআই স্মার্ট গ্লাস: পাইরেসি ও গোপনীয়তার শঙ্কায় যুক্তরাজ্যের সিনেমা হলে কড়াকড়ি

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিত্যনতুন গ্যাজেট আমাদের জীবনযাত্রা ও বিনোদন পাওয়ার মাধ্যমকে অভাবনীয়ভাবে বদলে দিচ্ছে। তবে পরিধানযোগ্য এই আধুনিক প্রযুক্তি অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী বিনোদন খাতগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে স্মার্ট চশমা ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির একাধিক খ্যাতনামা প্রেক্ষাগৃহ বা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা মেটা এআই স্মার্ট গ্লাস পরিহিত দর্শকদের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করবে। মূলত চলচ্চিত্র পাইরেসি প্রতিরোধ এবং সাধারণ দর্শকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এমন শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পাইরেসি রোধ ও বিনোদন খাতের সুরক্ষার তাগিদ

 

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবং রায়-ব্যান যৌথভাবে যে স্মার্ট চশমা বাজারে এনেছে, তাতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নতমানের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। দৃশ্যত সাধারণ চশমার মতো মনে হলেও, এটি দিয়ে অনায়াসেই উচ্চমানের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড করা সম্ভব। সিনেমা হলের পরিচালকদের আশঙ্কা, বড় পর্দায় সদ্য মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের দৃশ্য গোপনে ধারণ করার ক্ষেত্রে এই চশমা ব্যবহার করা হতে পারে। সাধারণত বিশ্বজুড়ে পাইরেসি চক্রগুলো সিনেমা হলের ভেতরের পরিবেশকে ব্যবহার করেই প্রাথমিক পাইরেটেড কপি তৈরি করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। মেটা এআই স্মার্ট গ্লাস চোখের সামনে স্বাভাবিক চশমার মতো পরা থাকে বলে প্রেক্ষাগৃহের নিরাপত্তাকর্মীদের পক্ষে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা বেশ দুরূহ। ফলে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

দর্শকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনি নিরাপত্তা

 

চলচ্চিত্র পাইরেসি ছাড়াও সিনেমা হলে আগত সাধারণ দর্শকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকার ও ব্যক্তিগত পরিবেশে যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের অগোচরে স্মার্ট চশমা দিয়ে ছবি বা অডিও-ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে, তবে তা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডিং জটিল সামাজিক ও আইনি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের যৌথ সংগঠনগুলো মনে করছে, হলে সিনেমা দেখতে আসা মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। এ কারণে সিনেমা হলের ভেতরে স্মার্ট চশমা কিংবা যেকোনো লুকানো ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যাপারে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে।

 

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ অবস্থান

 

অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের তৈরি স্মার্ট গ্লাসে যখনই কোনো ভিডিও রেকর্ডিং সচল হয়, তখন চশমার কোণে একটি দৃশ্যমান এলইডি আলো জ্বলে ওঠে। তাদের মতে, এই আলো আশপাশের মানুষকে সতর্ক করার জন্য যথেষ্ট। তবে সিনেমা হলের মালিকরা এই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য হলো, হলের অন্ধকার পরিবেশে সেই সামান্য আলো সহজেই ঢেকে রাখা যায় অথবা সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যেতে পারে। তাই সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যজুড়ে অধিকাংশ সিনেমা হলে প্রবেশপথেই মেটা এআই স্মার্ট গ্লাস খুলে রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও বিনোদন জগতের এই সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

 

সব বিভাগের সর্বশেষ