২০৩০ সালের সাইবার শিল্প পরিকল্পনায় কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে চীন
ভবিষ্যতের প্রযুক্তি দৌড়ে টেক বিশ্বের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে চীন এবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। দেশটির সেন্ট্রাল সাইবারস্পেস অ্যাফেয়ার্স কমিশন তাদের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন সাইবার শিল্প অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করেছে, যেখানে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি (Quantum Technology)-কে অন্যতম প্রধান ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

The Quantum Insider-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার (15th Five-Year Plan) অংশ হিসেবে নতুন এই পাঁচ বছর মেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। ল্যাবরেটরির গবেষণাকে সরাসরি বাজারজাতকরণ বা বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
নতুন অ্যাকশন প্ল্যানের মূল দিকগুলো
চীন এই নতুন জাতীয় পরিকল্পনায় মূলত সাতটি বড় পদক্ষেপ এবং ২১টি নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে। তবে এই প্রযুক্তি ছাড়া আরও কিছু প্রতিশ্রুতিশীল ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে:
- হাই-এন্ড চিপস (High-end chips): সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই-এর প্রসার।
- সাইবার সিকিউরিটি ও ব্লকচেইন: তথ্যসুরক্ষা এবং নিরাপদ লেনদেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
- ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI): নিউরোটেকনোলজি এবং মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ।
চীন সরকার কোম্পানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাণিজ্যায়ন, আন্তর্জাতিক প্রসার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা—এই পাঁচটি স্তম্ভে ভাগ করে পুরো অ্যাকশন প্ল্যান সাজিয়েছে।
কী নেই এই প্রতিবেদনে?
যদিও পরিকল্পনাটি বেশ বড়সড়, তবুও এতে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকে গেছে। নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট কোনো আর্থিক বরাদ্দ (Funding) বা কত বাজেট রাখা হচ্ছে তা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি-র কোন শাখাটি—কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কোয়ান্টাম সিকিউর কমিউনিকেশন নাকি কোয়ান্টাম সেন্সিং—বেশি অগ্রাধিকার পাবে, তাও স্পষ্ট বলা হয়নি।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি যুদ্ধ যখন তীব্র হচ্ছে, তখন গবেষণাগার থেকে এই প্রযুক্তিকে বের করে এনে বাজার দখল করার এই চাল বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।











