টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ভাষা এআই নিয়ে হাত মেলাচ্ছে ভারত-নেপাল: ভাষিণী ও কাঠমাণ্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্যোগ

ভারতের ভাষা এআই প্রযুক্তি এবার সীমানা পেরিয়ে নেপালেও পৌঁছাতে চলেছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশনের (DIC) অধীনে থাকা ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী ডিভিশন (DIBD) সম্প্রতি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। উদ্দেশ্য একটাই — ভাষা প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

চটজলদি জেনে নিন

  • কী নিয়ে কথা হলো?
  • ভাষিণী টিম কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (DPI-AI) সেন্টারের সঙ্গে একটি ইন্ট…
  • পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক হয়।
  • সহজ কথায় বললে, দুই পক্ষ দেখছে নেপালের জন্য কীভাবে ভাষিণীর মতো বহুভাষিক এআই সিস্টেম কাজে লাগানো যায়।

কী নিয়ে কথা হলো?

ভাষিণী টিম কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (DPI-AI) সেন্টারের সঙ্গে একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনে অংশ নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক হয়। সহজ কথায় বললে, দুই পক্ষ দেখছে নেপালের জন্য কীভাবে ভাষিণীর মতো বহুভাষিক এআই সিস্টেম কাজে লাগানো যায়।

কোন কোন ভাষা নিয়ে ভাবা হচ্ছে?

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নেপালের সেইসব ভাষা, যেগুলো এখনো এআই দুনিয়ায় তেমন জায়গা পায়নি। যেমন:

  • নেপালি ভাষা
  • নেওয়ারি
  • তামাং
  • গুরুং
  • প্রচলিত লিপি ও রঞ্জনা লিপি — নেপালের দুটি ঐতিহ্যবাহী লিপি

লক্ষ্য হলো, নেপালের এই ভাষাগত বৈচিত্র্যকে ডিজিটাল আর এআই জগতে নিয়ে আসা, যাতে কেউ ভাষার কারণে প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে।

আসল চ্যালেঞ্জ কোথায়?

আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল ডেটার সমস্যা। ভালো মানের ভাষা এআই মডেল বানাতে গেলে প্রচুর পরিমাণে নির্ভরযোগ্য ভাষার তথ্য দরকার — বিভিন্ন বক্তা, বিভিন্ন উপভাষা আর লিপি থেকে সংগ্রহ করা তথ্য। এই তথ্য জোগাড় আর গুছিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। এর পাশাপাশি অনুবাদের মান আরও ভালো করা এবং মডেল তৈরি ও চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা নিয়েও কথা হয়েছে।

শুধু মডেল নয়, বাস্তবে ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে

এই আলোচনা শুধু গবেষণাতেই আটকে থাকেনি। ভবিষ্যতে ভয়েস-ফার্স্ট অর্থাৎ কথা বলে চালানো যায় এমন সমাধান নিয়েও ভাবনাচিন্তা হয়েছে, যাতে ভাষার ডেটা আর মডেল সরাসরি মানুষের কাজে লাগে — নিজের মাতৃভাষায় ডিজিটাল সুবিধা পাওয়া যায়।

 

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের DPI-AI সেন্টার এক্ষেত্রে গবেষণা আর উদ্ভাবনে বেশ শক্তিশালী। তাদের এই দক্ষতা আর ভাষিণীর প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নেপালের জন্য একটা কার্যকর বহুভাষিক এআই ব্যবস্থা দাঁড় করানোই এখন মূল লক্ষ্য। এখনও পর্যন্ত এটা প্রাথমিক আলোচনার স্তরে আছে, কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের ঘোষণা হয়নি — তবে ভারত-নেপালের ডিজিটাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা যায়।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ