টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

“সবার জন্য এআই”: বিনামূল্যে চ্যাটবট পাবেন সব নাগরিক- কোন দেশে জানেন?

এই দেশটির সরকার চাইছে, তাদের প্রায় ৫২ মিলিয়ন নাগরিকের প্রত্যেকে যেন বিনামূল্যে এবং সীমাহীনভাবে একটি AI চ্যাটবট ব্যবহার করতে পারেন — একদম স্কুল বা লাইব্রেরির মতো, কোনো সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই। প্রকল্পটির নাম "এআই ফর এভরিওয়ান" (AI for Everyone)। এমনই একটি বড় পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।

চটজলদি জেনে নিন

  • কী ঘোষণা করা হয়েছে?
  • দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গত ১৩ জুলাই এই সবার জন্য এআই প্রকল্পের কথা জানায়।
  • এই প্রকল্পের আওতায় থাকছে দুটো অংশ — একটি সাধারণ AI চ্যাটবট, যা যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন একটি "পাবলিক-সার্ভিস এজেন্ট", যা মানু…
  • বেটা সংস্করণ আসবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, আর পুরোদস্তুর চালু হবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ।

কী ঘোষণা করা হয়েছে?

দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গত ১৩ জুলাই এই সবার জন্য এআই প্রকল্পের কথা জানায়। এই প্রকল্পের আওতায় থাকছে দুটো অংশ —

  • একটি সাধারণ AI চ্যাটবট, যা যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন
  • একটি “পাবলিক-সার্ভিস এজেন্ট”, যা মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা খুঁজে পেতে ও আবেদন করতে সাহায্য করবে

দুই থেকে তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নেওয়া হবে এই সেবা তৈরির জন্য, আর ১১ আগস্টের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বেটা সংস্করণ আসবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, আর পুরোদস্তুর চালু হবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ।

কেন এই পদক্ষেপ?

সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, বয়স্ক বা কম আয়ের মতো “ডিজিটালি দুর্বল” মানুষদের মধ্যে মাত্র ৩১.৯% কখনো এআই ব্যবহার করেছেন, যেখানে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই হার ৫৯.৪%। এই ব্যবধান কমাতেই সরকার এআই-কে “মৌলিক অধিকার”-এর মতো দেখতে চাইছে — শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবার মতোই সবার নাগালে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় অর্ধেক জনগণ জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেন, আর তার মধ্যে প্রায় ২৩ মিলিয়ন মানুষ ChatGPT-এর মতো বিদেশি পরিষেবার জন্য টাকা খরচ করেন। সরকার সেই মানুষদেরও একটা বিনামূল্যের, ভালো বিকল্প দিতে চাইছে।

দেশীয় মডেলের শর্ত

এই এআই চ্যাটবট প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আছে — সিস্টেমের অন্তত ৫০% অংশ চলতে হবে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি ফাউন্ডেশন মডেলে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট: বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পকে শক্তিশালী করা। সরকারি সহায়তা চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত, যদিও ২০২৭ সালের পর এর পরিমাণ নির্ভর করবে বার্ষিক বাজেট পর্যালোচনার ওপর।

গুরুত্ব কোথায়?

এই উদ্যোগ সফল হলে দক্ষিণ কোরিয়া হবে G20-ভুক্ত প্রথম দেশ, যারা পুরো জনগণকে একসঙ্গে বিনামূল্যে এআই সেবা দেবে। এটি শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং প্রমাণ করবে যে সরকারও বিনামূল্যে এআই সেবা দেওয়ার মতো বড় প্রকল্প হাতে নিতে পারে — যা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্যও একটা মডেল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ