ছোট্ট ঘরে বড় হওয়া এক ছেলে আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী টেক সংস্থার প্রধান। জেনে নিন তাঁর জীবনের গল্প।
১৯৭২ সালের ১০ জুন তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে জন্ম। বেড়ে ওঠা চেন্নাইয়ে। ছোট বাড়িতে ভাইয়ের সঙ্গে বসার ঘরেই ঘুমোতেন।
ছোটবেলায় প্রযুক্তির সুযোগ ছিল সীমিত। কিন্তু যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, তা জানার কৌতূহল ছিল প্রবল। সেই আগ্রহই পরে তাঁর পথ ঠিক করে দেয়।
আইআইটি খড়্গপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন, সেখানে ইনস্টিটিউট সিলভার মেডেলও পান। এখানেই পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে।
স্কলারশিপ পেয়ে ১৯৯৩ সালে আমেরিকা যান। বাবা এক বছরের বেতন খরচ করে তাঁর প্লেনের টিকিট কিনেছিলেন। স্ট্যানফোর্ড থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে মাস্টার্স করেন।
অ্যাপ্লাইড মেটেরিয়ালসে ইঞ্জিনিয়ার ও প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু। পরে ওয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ করেন এবং ম্যাককিনজিতে যোগ দেন।
২০০৪ সালে গুগলে যোগ দেন। প্রথম বড় কাজ গুগল টুলবার, যা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ও ফায়ারফক্সে সরাসরি গুগল সার্চের সুবিধা দিত।
তাঁর প্রস্তাবেই গুগল ক্রোম তৈরি হয়, যা পরে বিশ্বের জনপ্রিয়তম ব্রাউজার হয়ে ওঠে। ২০১৩ সালে অ্যান্ড্রয়েডের দায়িত্বও তাঁর হাতে আসে। এরপর জিমেইল, ম্যাপস, ড্রাইভের মতো পণ্যও তাঁর তত্ত্বাবধানে যায়।
২০১৫ সালে ল্যারি পেজের জায়গায় গুগলের সিইও হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মূল সংস্থা আলফাবেটেরও সিইও হন। ২০২২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।
তাঁর নেতৃত্বে গুগল এখন জেমিনি, ক্লাউড, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ওয়েমোর মতো ক্ষেত্রে এআই নিয়ে কাজ করছে। সাধারণ ঘর থেকে ওঠা এই যাত্রা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।