সামরিক ক্ষেত্রে এ আই (AI in Warfare)

ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: থামেনি লড়াই, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

আজ শুক্রবার একটা বড় মাইলফলক পার হলো। ছয় মাস আগে আমেরিকা আর ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে "বড় সামরিক অভিযান" শুরু করেছিল। এখনও সেই ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং পরিস্থিতি এখন এক ধরনের "স্থবিরতা"য় আটকে গেছে — না কেউ পিছু হটছে, না কেউ নতুন করে আক্রমণ বাড়াচ্ছে।

সংঘাতটা একধরনের অচলাবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে কোনো পক্ষই যেন সংঘাত থেকে পিছু হঠতে প্রস্তুত নয়।

গ্রেগরি ব্রু, ইরান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ইউরেশিয়া গ্রুপ

চটজলদি জেনে নিন

  • কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
  • CNBC-কে দেওয়া মন্তব্যে ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ব্রু বলেছেন, দুই পক্ষই এখন একটা "স্ট্যান্ডঅফ" বা মুখোমুখি অচলাবস…
  • যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা বাড়াচ্ছে না, কারণ তারা ইরানের পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি এবং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত।
  • তার বদলে ট্রাম্প প্রশাসন বেছে নিয়েছে অর্থনৈতিক অবরোধের পথ — যাকে বলা হচ্ছে "ইকোনমিক ডি-ডে"।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

CNBC-কে দেওয়া মন্তব্যে ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ব্রু বলেছেন, দুই পক্ষই এখন একটা “স্ট্যান্ডঅফ” বা মুখোমুখি অচলাবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা বাড়াচ্ছে না, কারণ তারা ইরানের পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি এবং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত।

তার বদলে ট্রাম্প প্রশাসন বেছে নিয়েছে অর্থনৈতিক অবরোধের পথ — যাকে বলা হচ্ছে “ইকোনমিক ডি-ডে”। ধারণাটা হলো, ইরানের অর্থনীতিতে চাপ দিয়ে তাদের নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা। কিন্তু ব্রু-র মতে, এই কৌশল কাজ করার সম্ভাবনা কম। তার ভাষায়, ইরান বরং এখন নিজেদের নিয়ে গর্বিত বোধ করছে, কারণ সীমিত সামরিক শক্তি নিয়েও তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ছয় মাস টিকে গেছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা পরিচালক মাইকেল ও’হ্যানলন আরও কড়া ভাষায় বলেছেন, ট্রাম্প “অবাস্তব প্রত্যাশা” নিয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন — যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কী হবে, তা ঠিকমতো না বুঝেই। এখন তিনি “সবচেয়ে কম খারাপ” বিকল্পটাই বেছে নিয়েছেন বলে মনে করেন ও’হ্যানলন।

এখন নজর রাখতে হবে যে তিনটা বিষয়ে

ও’হ্যানলনের মতে, জয়-পরাজয়ের হিসাব বাদ দিয়ে আসলে নজর রাখা উচিত এই তিনটা জায়গায়:

  • সহিংসতা কমানো বা একেবারে বন্ধ করা
  • হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া (বিশ্বের তেল ব্যবসার বড় একটা অংশ এই পথ দিয়েই যায়)
  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ রাখা

সহজ কথায় বুঝে নিন

এখানে “স্ট্যান্ডঅফ” মানে হলো এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দুই পক্ষই লড়ছে, কিন্তু কেউ জিততেও পারছে না, হারতেও রাজি না। আর “ইকোনমিক ডি-ডে” মানে সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চাপ তৈরি করা।

শেষ কথা

ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এই ইরান যুদ্ধ এখনো কোনো স্পষ্ট দিকে যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পথ থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক চাপের পথে হাঁটছে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে দ্রুত ফল আসবে না। যতদিন না হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় বা কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে, ততদিন এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ববাজার আর সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতেই থাকবে।

মূল সূত্র: CNBC

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ