অ্যানথ্রপিক ক্লড-কে নীতি শেখাতে সিলিকন ভ্যালিতে ডাক পড়ল ভারতীয় সন্ন্যাসীর
প্রযুক্তি সংস্থা সমস্যায় পড়লে সাধারণত আরও ইঞ্জিনিয়ার খোঁজে। এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিক এবার গেল অন্য পথে। অ্যানথ্রপিক ক্লড নামের চ্যাটবটকে কীভাবে ভালো-মন্দের ধারণা দেওয়া যায়, তা বুঝতে তারা ডেকেছিল ধর্মগুরু, মনোবিদ আর দার্শনিকদের। তাঁদের একজন ভারতীয় সন্ন্যাসী স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ।
চটজলদি জেনে নিন
- কে এই স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ?
- তিনি রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সন্ন্যাসী এবং নিউ ইয়র্কের বেদান্ত সোসাইটির প্রধান।
- ১৯৯৪ সালে রামকৃষ্ণ মঠে যোগ দেন, সন্ন্যাস নেন ২০০৪ সালে।
- বেদান্ত হলো ভারতীয় দর্শনের একটি ধারা।

কে এই স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ?
তিনি রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সন্ন্যাসী এবং নিউ ইয়র্কের বেদান্ত সোসাইটির প্রধান। ১৯৯৪ সালে রামকৃষ্ণ মঠে যোগ দেন, সন্ন্যাস নেন ২০০৪ সালে। বেদান্ত হলো ভারতীয় দর্শনের একটি ধারা। এটি চেতনা, নিজের পরিচয় আর বাস্তবের স্বরূপ নিয়ে ভাবে।
খবর সামনে এল কীভাবে?
২০২৬ সালের জুনে ডালাসের এক বক্তৃতায় তিনি নিজেই ঘটনাটা বলেন। সেই ভিডিও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে অনলাইনে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, চাকরির জন্য নয়। তারপর তাঁকে সান ফ্রান্সিসকোর সদর দপ্তরে আসতে বলা হয়। যাতায়াত ও হোটেলের ব্যবস্থা করে কোম্পানি। তাঁকে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে (NDA) সইও করতে হয়, তাই ভেতরের অনেক কথা তিনি বলতে পারেননি।
সেই ঘরে আর কারা ছিলেন?
- বিভিন্ন ধর্মের ধর্মতত্ত্ববিদ
- কাউন্সেলর ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
- ১৫টিরও বেশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পণ্ডিত, যাঁদের সঙ্গে কথা বলার কথা অ্যানথ্রপিক মে মাসেই জানিয়েছিল
প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ক্রিস ওলা নাকি অংশগ্রহণকারীদের বলেছেন, এআই মডেল মানুষের মতো আবেগ ও ব্যক্তিত্বের আচরণ দেখাতে পারে। তাই শুরু থেকেই তার একটা শক্ত নৈতিক দিশা দরকার। উপস্থিত র্যাবাই আব্রাহাম নাভনের মনে হয়েছে, গবেষকরা ক্লডকে শুধু সফটওয়্যার ভাবছিলেন না। তাঁদের কথায় ক্লড যেন এক সম্ভাব্য চেতন সত্তা, যার প্রতি নৈতিক বিবেচনা প্রাপ্য।
শুধু এক ধর্মের কথা নয়
অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট বলেছে, তারা ক্লডকে কোনো একটি ধর্মের পথে চালাতে চায় না। বরং সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিখিয়ে অ্যানথ্রপিক ক্লড-কে আরও ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। স্বামীজির মতে, কোম্পানির লোকজন এআই নিয়ে যেমন উৎসাহী, তেমনই আশঙ্কিত। ওখানকার কাজ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
স্বামীজি এ-ও দাবি করেছেন, আলোচনার কিছু কথা পোপ চতুর্দশ লিওর এআই-বিষয়ক পত্রে (এনসাইক্লিক্যাল) জায়গা পেয়েছে। তবে স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা যায়নি। কিছু সমালোচক পুরো উদ্যোগটিকে “এথিকস ওয়াশিং” বা ভালো দেখানোর কৌশল বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন।
চেতনার প্রশ্ন এখনও খোলা
অ্যানথ্রপিক নিজে কখনও বলেনি ক্লডের চেতনা আছে। তাদের প্রকাশিত নীতিপত্রে বরং এ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাই স্বীকার করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, সাবলীল কথা বলা মানেই চেতনা থাকা নয়। তাই এআই আদৌ কিছু অনুভব করতে পারে কি না, সেই উত্তর এখনও কারও হাতে নেই।











