টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ওপেনএআই গণিত ফলাফল: গণিতবিদদের মাথায় হাত, কেন এত তোলপাড়?

চলতি সপ্তাহে ওপেনএআই একসঙ্গে শত শত গাণিতিক সমাধান প্রকাশ করেছে। এই ওপেনএআই গণিত ফলাফল নিয়ে গণিতবিদদের মহলে এখন তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কেউ বলছেন জঞ্জালের স্তূপ। কেউ কেউ মজা করে নাম দিয়েছেন "ম্যাথোক্যালিপ্স"।

চটজলদি জেনে নিন

  • ওপেনএআই দাবি করেছে ৭২২টি গবেষণাপত্রে ৩৭২টি অমীমাংসিত গণিত সমস্যায় অগ্রগতি।
  • রিমান হাইপোথিসিসসহ বড় দাবির মধ্যেই তিনটি পত্র ভুলের কারণে প্রত্যাহার।
  • প্রমাণ যাচাইয়ে ভরসা Lean সফটওয়্যার, তবু অটোফরমালাইজেশনেও ত্রুটির ঝুঁকি থাকছে।
  • নেভিয়ার–স্টোকস বিতর্ক থেকে নজর সরানো ও শেয়ারবাজার-ইমেজ বাড়ানোর অভিযোগ উঠছে।

ঠিক কী প্রকাশ করা হয়েছে?

ওপেনএআই দাবি করছে, এই ফলাফল মানুষের জ্ঞানের সীমানা এগিয়ে নেবে। বেশির ভাগ কাজ করেছে তাদের একটি অপ্রকাশিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল।

  • মোট ৭২২টি গবেষণাপত্র
  • ৩৭২টি অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে কাজ
  • বিষয় বীজগণিত, জ্যামিতি থেকে তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞান পর্যন্ত
  • কিছু পত্রে রিমান হাইপোথিসিস ও বার্চ–সুইনারটন-ডায়ার অনুমানের মতো বড় সমস্যায় অগ্রগতির দাবি

এই দুটি সমস্যাই মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের অংশ। সমাধান করলে প্রতিটির জন্য ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার মেলে।

সমস্যা কোথায়?

প্রথম সমস্যা, পড়ে বোঝা কঠিন। লেখকের এক সিনিয়র সহকর্মী নিজের প্রিয় একটি সমস্যার সমাধান-পত্র পড়তে গিয়ে হাল ছেড়েছেন। তাঁর মতে, জার্নালের সম্পাদক হিসেবে পেলে সেটা সোজা ঝুড়িতে যেত।

দ্বিতীয় সমস্যা, ভুল। ওপেনএআই ইতিমধ্যে তিনটি পত্র প্রত্যাহার করেছে একটি মৌলিক ভুলের কারণে। আরও কয়েকটি সংশোধন করেছে। এতে বোঝা যায়, প্রকাশের আগে যথেষ্ট যাচাই হয়নি।

ভুল ধরবে কে?

গণিতে সত্য-মিথ্যার মাঝামাঝি কিছু নেই। তাই বহু শতক ধরে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে সত্য নির্ধারণ করেন। বড় পত্র যাচাই করতেই কখনো কয়েক বছর লেগে যায়।

এখানে সাহায্য করতে পারে Lean নামের সফটওয়্যার। এটি মৌলিক স্বতঃসিদ্ধ থেকে শুরু করে প্রমাণের প্রতিটি ধাপ মেশিনে মিলিয়ে দেখে। এআই এখন অটোফরমালাইজেশনও করতে পারে, অর্থাৎ প্রমাণকে নিজে থেকে মেশিন-যাচাইযোগ্য রূপে বদলাতে পারে। ওপেনএআই বলছে, তারা প্রধান ফলাফলের ৩০০টি এভাবে যাচাই করেছে।

তবে এখানেও ঝুঁকি আছে। আগে এআই-নির্মিত ফরমালাইজেশনে ত্রুটি ধরা পড়েছে, নেভিয়ার–স্টোকস সমস্যার ক্ষেত্রেও। গণিতবিদ সমাজ এগুলো মানবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট।

কেন এত বড় আয়োজন?

ওপেনএআই বলছে, লক্ষ্য গণিতে আরও অগ্রগতি। লেখকের মতে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে:

  • সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত নেভিয়ার–স্টোকস দাবির বিতর্ক থেকে নজর সরানো। গণিতবিদ ত্রিস্তান বাকমাস্টার ও লেভেন্ট আলপোজের অভিযোগ, ওপেনএআই তাঁদের তথ্য ও ধারণা ব্যবহার করেছে। ওপেনএআই তা অস্বীকার করেছে।

  • কঠিন গণিত পারা মানে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের (এজিআই) দিকে এগোনো, এই ধারণা জোরদার করা।

  • শেয়ারবাজারে আসার আগে ভাবমূর্তি বাড়ানো। কোম্পানি নাকি প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন চায়।

 

উত্তেজনা আছে, উদ্বেগও আছে। এই গতি ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, গণিত গবেষণার ভবিষ্যৎ কী, আর এআই-লেখা দুর্বোধ্য প্রমাণ বোঝার কাজ কে করবে। শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য প্রশ্নটা আরও বড়: তাঁদের কাজ কি কোনো এআই-ব্যবহারকারীর কাছে আগেই “চুরি” হয়ে যাবে? ধুলো বসার পরও এই আলোচনা চলবে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ