টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

‘নিপীড়নমূলক ও ডিসটোপিয়ান’: এআই নজরদারি চলছে কো-অপের কর্মীদের প্রতিটি ফোনকলে

যুক্তরাজ্যের পরিচিত প্রতিষ্ঠান কো-অপ এবার কর্মীদের ওপর এআই নজরদারি চালু করেছে। গ্রাহকের সঙ্গে কর্মীর প্রতিটি ফোনকল এখন শুনছে এবং নম্বর দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এক হুইসেলব্লোয়ার (ভেতরের তথ্য ফাঁসকারী) ব্যবস্থাটিকে বলেছেন "নিপীড়নমূলক ও ডিস্টোপিয়ান", অর্থাৎ দমবন্ধ করা ভবিষ্যতের মতো।

পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)

চটজলদি জেনে নিন

  • কো-অপের আইনি বিভাগে এআই এখন প্রতিটি ফোনকল বিশ্লেষণ করে স্কোর দিচ্ছে।
  • কর্মীরা একে "ডিস্টোপিয়ান" বলছেন, শোকাহত গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথনও পড়ছে নজরে।
  • কো-অপের দাবি, এআই সহায়ক মাত্র, সিদ্ধান্ত নেয় না মানুষ।
  • আইএলও সতর্ক করেছে, নিয়মহীন এআই নজরদারি কর্মীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।

কো-অপ লিগ্যাল সার্ভিসেসে ঠিক কী হচ্ছে?

কো-অপ সুপারমার্কেট, অন্ত্যেষ্টি সেবা, বিমা ও আইনি সেবা চালায়। এর আইনি বিভাগ কো-অপ লিগ্যাল সার্ভিসেস উইল, প্রোবেট (মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ও উইল বুঝিয়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া) ও এস্টেট নিয়ে পরামর্শ দেয়। সেখানে এখন এআই ফোনকল রেকর্ড করে বিশ্লেষণ করছে।

  • ওপেনএআইয়ের একটি মডেল প্রতিটি কলের ৫০টির বেশি দিক যাচাই করে।
  • ফল আসে পাস বা ফেল এবং শতাংশের স্কোরে।
  • স্কোর যায় ম্যানেজারদের কাছে, কর্মীদের কাজের মূল্যায়নে।
  • গত কয়েক মাসে কয়েক ডজন কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটি চালু হয়েছে বলে জানা গেছে।
  • বিক্রি বাড়ানোর উপায় খুঁজতেও এটি কাজে লাগানো হচ্ছে।

এআই নজরদারি নিয়ে কর্মীরা কী বলছেন?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী গার্ডিয়ানকে জানান, দিনে কয়েক ঘণ্টা তাঁর কাজ এআইয়ের নজরে থাকে। অথচ ফোনের ওপাশে প্রায়ই থাকেন সদ্য প্রিয়জন হারানো মানুষ। তাঁর মতে, এতে কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি কথা নজরে থাকার অনুভূতিকে তিনি “ডিস্টোপিয়ান” বলেছেন এবং মনে করেন এটি আরও বড় কিছুর শুরু।

কো-অপের জবাব

কো-অপ সমালোচনার সঙ্গে একমত নয়। সংস্থার দাবি, এআই শুধু সহায়ক হাতিয়ার, সিদ্ধান্ত নেয় না। গ্রাহক যাতে সহমর্মী ও দক্ষ পরামর্শ পান, সেটি নিশ্চিত করতেই এই ফোনকল পর্যবেক্ষণ।

শুধু কো-অপ নয়, কর্মক্ষেত্রে এআই বাড়ছে

এআই নজরদারির এই প্রবণতা নতুন নয়:

  • ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্গার কিং জানায়, রেস্তোরাঁকর্মীদের গ্রাহক-আলাপ ট্র্যাক করতে এআই ব্যবহার করবে।
  • এ বছরের গ্রীষ্মে ডেটা গোপনীয়তার উদ্বেগ ও কর্মীদের ক্ষোভে মেটা কর্মীদের কিবোর্ড-ট্র্যাকিং থামিয়ে দেয়।
  • গত সপ্তাহে গার্ডিয়ান জানায়, ইউয়ান ব্লেয়ারের এআই প্রশিক্ষণ সংস্থা মাল্টিভার্স অনলাইন ক্লাসে এআই-নজরদারি শুরু করেছে। শিক্ষকরা একে “নির্মম” ও “অস্বস্তিকর” বলেছেন।

কর্মীদের মানসিক চাপ ও ইউনিয়নের আপত্তি

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন পর্যবেক্ষণে কর্মীদের মানসিক চাপ বাড়তে পারে। এ বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কর্মক্ষেত্রে এআই নজরদারির মানসিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, পূর্ণাঙ্গ নিয়মকানুন ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে এআই বসানো হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলোও আপত্তি জানাতে শুরু করেছে।

 

কর্মক্ষেত্রে এআই যত ছড়াচ্ছে, কর্মীর গোপনীয়তা ও মর্যাদার প্রশ্নে এআই নজরদারি নিয়ে বিতর্কও তত তীব্র হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ