পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

মহারাষ্ট্রে ইলেকট্রিক বাইক ট্যাক্সি বাধ্যতামূলক, ডেডলাইন জুলাই ২০২৭

মহারাষ্ট্রের রাস্তায় এবার শুধু ইলেকট্রিক বাইক ট্যাক্সিই দেখতে চাইছে রাজ্য সরকার। খবর অনুযায়ী, র‍্যাপিডো, উবার ও ওলা-সহ সব বাইক ট্যাক্সি অ্যাগ্রিগেটরকে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পুরোপুরি ইলেকট্রিক ফ্লিটে যেতে বলা হয়েছে। (অ্যাগ্রিগেটর মানে যে অ্যাপ-কোম্পানি যাত্রী আর চালককে জুড়ে দেয়।)

চটজলদি জেনে নিন

  • মহারাষ্ট্রে পেট্রল বাইক ট্যাক্সি তুলে দিতে নয় মাসের কড়া ডেডলাইন সরকারের
  • চালক সংগঠনের দাবি, ইলেকট্রিক বাইক কিনতে দরকার দেড় বছর সময়
  • চার্জিং পরিকাঠামোর অভাবে বিপাকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত রাইডাররা
  • নিয়ম ভাঙায় আগেই বাতিল হয়েছিল ওলা, উবার, র‍্যাপিডোর লাইসেন্স

সরকারের নির্দেশে ঠিক কী আছে?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে জানা গেছে, রাজ্যের পরিবহন দফতর এ মাসের শুরুতে অ্যাগ্রিগেটরদের চিঠি পাঠিয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী নয় মাসে ধাপে ধাপে পেট্রলচালিত বাইক ট্যাক্সি সরিয়ে ফেলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের নির্দেশ মেনেই নাকি এই পদক্ষেপ।

সময়ের হিসাবটা এমন:

  • রাইড-হেইলিং প্ল্যাটফর্ম (যে সংস্থার অ্যাপে রাইড বুক হয়): প্রথমে ছয় মাস
  • অস্থায়ী লাইসেন্সের আবেদনকারী অপারেটর, যাঁরা মহারাষ্ট্র বাইক ট্যাক্সি রুলস, ২০২৫-এর আওতায় আবেদন করেছেন: আরও তিন মাস বাড়তি

ইলেকট্রিক বাইক ট্যাক্সি নিয়ে চালকদের আপত্তি কোথায়?

এক মাস আগে মহারাষ্ট্র বাইক ট্যাক্সি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (MBTWA) মুখ্যমন্ত্রী, পরিবহনমন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েক ও পরিবহন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিল। তাদের দাবি ছিল, ইলেকট্রিক বাইক ট্যাক্সিতে যেতে অ্যাগ্রিগেটরদের দেড় বছর সময় দেওয়া হোক। সংগঠনের সভাপতি অমিত গাওড়ের মতে, বেশিরভাগ রাইডার মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের। একসঙ্গে বড় অঙ্ক খরচ করে ইলেকট্রিক বাইক কেনা তাঁদের পক্ষে কঠিন। চার্জিং পরিকাঠামোর অভাবও বড় সমস্যা।

সূত্রের খবর, প্ল্যাটফর্মগুলোও নাকি ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার দিয়েছে মাত্র নয় মাস।

আগে কী ঘটেছিল?

২০২৫ সালের জুলাইয়ে মহারাষ্ট্রে বাইক ট্যাক্সি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ হয়। তখন ওলা, উবার ও র‍্যাপিডোকে ৩০ দিনের অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম ছিল, বাণিজ্যিকভাবে শুধু হলুদ রঙের ইলেকট্রিক দুই চাকার গাড়িই চলবে, আর তাতে বাইক ট্যাক্সি লেখা থাকতে হবে।

অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিয়ম মানেনি। তাই চলতি বছরের মার্চে লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। এরপর অবৈধ পেট্রলচালিত বাইক ট্যাক্সির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জরিমানা আদায় হয়েছে ১৬.২৫ লক্ষ টাকা। ২০২৬-এর এপ্রিল ও মে মাসে আদায় হয়েছে আরও ২.৩১ লক্ষ টাকা।

চার মাস আগে সরনায়েক জানিয়েছিলেন, অবৈধভাবে চলা বাইক ট্যাক্সির উপর অস্থায়ী দৈনিক ৫ টাকা ফি বসবে। পাশাপাশি প্রতিটি রাইডের ভাড়ার ২% চালকদের কল্যাণ তহবিলে দিতে হবে অ্যাগ্রিগেটরদের।

এরপর কী?

 

এখন দেখার, ইলেকট্রিক বাইক ট্যাক্সির এই সময়সীমা বহাল থাকে, নাকি চালক ও কোম্পানিগুলোর আপত্তির পর বদলায়।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ