কৃষিতে এআই: রাজস্থানের কৃষি কর্মকর্তারা পেলেন প্রশিক্ষণ
রাজস্থানের মাঠে এবার প্রযুক্তির ছোঁয়া। কৃষিতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কাজে লাগাতে রাজস্থান কৃষি বিভাগ তাদের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই: চাষির হাতে সঠিক তথ্য, সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া।
চটজলদি জেনে নিন
- জয়পুরে কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য এআই বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা হয়েছে।
- Wadhwani AI-র সঙ্গে বিনামূল্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সমঝোতা হয়েছে রাজস্থান সরকারের।
- আবহাওয়া, ফসল পর্যবেক্ষণ ও রোগ শনাক্তে এআই স্থায়ীভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা।
- সঠিক তথ্যে চাষির খরচ কমবে, ফলন ও লাভ বাড়বে বলে আশা।

কর্মশালায় কী হলো?
গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর জয়পুরের পন্ত কৃষি ভবনে এক দিনের কর্মশালা হয়। ওয়াধওয়ানি ইনস্টিটিউট ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (Wadhwani AI) বিশেষজ্ঞরা কর্মকর্তাদের বুঝিয়েছেন, কৃষিতে এআই ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা যায়।
মে মাসে রাজ্য সরকার এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। এতে কোনো আর্থিক লেনদেন নেই। প্রতিষ্ঠানটি শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, সরকারের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়বে না।
শুধু পরীক্ষা নয়, স্থায়ী ব্যবস্থা
বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথায়, এআইকে শুধু পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি করে রাখা হবে না। একে কৃষক পরিষেবার স্থায়ী অংশ করাই লক্ষ্য। রাজ্যের জিডিপিতে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের অবদান ২৭ শতাংশ। সেই ভাগ আরও বাড়াতে নতুন প্রকল্প আসছে, যার মধ্যে এআইও আছে।
কৃষিতে এআই দিয়ে কী কী হতে পারে?
সহজ ভাষায়, ডেটা অ্যানালিটিক্স মানে অনেক তথ্য একসঙ্গে ঘেঁটে কাজের ইঙ্গিত বের করা। কৃষি, আবহাওয়া ও ফসলের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে চাষিকে স্থানীয় ও সময়োপযোগী পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো:
- আবহাওয়াভিত্তিক কৃষি পরামর্শ
- মাঠে ফসল পর্যবেক্ষণ ও ফসলের অবস্থা যাচাই
- কীটপতঙ্গ ও রোগের আগাম শনাক্তকরণ
- ফলনের পূর্বাভাস
- সেচ ও অন্যান্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার
- বাজার ও দরের তথ্য
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন
Udaipur Times জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় ক্ষতির হিসাব স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে স্যাটেলাইট চিত্র, ইমেজ বিশ্লেষণ ও ড্রোনের মতো প্রযুক্তিও কাজে লাগতে পারে।
চাষির লাভ কোথায়?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস আর মাঠের আসল অবস্থা মিলিয়ে চাষি বুঝতে পারবেন, কখন বীজ বুনবেন, কখন সেচ দেবেন, কখন সার বা কীটনাশক লাগবে, আর কখন ফসল তুলবেন। এতে চাষের খরচ কমবে, ঝুঁকি কমবে এবং ফলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি কমিশনার নরেশ কুমার গোয়ালের মতে, প্রযুক্তি চাষির কাছে ঠিকমতো পৌঁছালে কৃষি আরও স্মার্ট, লাভজনক ও টেকসই হবে। এখন দেখার, মাঠ পর্যায়ে কৃষিতে এআই কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।











