Mythic AI পা রাখল ভারতে, ব্যাঙ্গালুরুতে নতুন কেন্দ্র
মার্কিন চিপ স্টার্টআপ মিথিক এআই এবার সরাসরি ভারতের বাজারে প্রবেশ করল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্গালুরুতে তারা নিজেদের নতুন "সেন্টার অফ এক্সিলেন্স" (CoE) চালু করেছে। লক্ষ্য একটাই— কম বিদ্যুৎ খরচে চলতে পারে এমন এআই চিপ তৈরি করা।
চটজলদি জেনে নিন
- মিথিক এআই-এর অ্যানালগ কম্পিউট-ইন-মেমোরি প্রযুক্তি বিদ্যুৎ খরচ ও ল্যাটেন্সি দুটোই কমায়
- ডেটা সেন্টার, অটোমোটিভ, রোবোটিক্স ও প্রতিরক্ষা— এই চার ক্ষেত্রে ভারতে সুযোগ দেখছে সংস্থা
- ব্যাঙ্গালুরুতে টিম এখন ২০ জন, ২০২৭ সালের মধ্যে ৬০ ছাড়ানোর পরিকল্পনা
- এনভিডিয়ার জিপিইউ-র শক্তি-সাশ্রয়ী বিকল্প হতে চায় মিথিক এআই, ভারত সেই পরিকল্পনার বড় অংশ

মিথিক এআই আসলে করে কী?
সহজ ভাষায় বললে, বেশিরভাগ চিপে ডেটা মেমোরি আর প্রসেসরের মধ্যে বারবার আনা-নেওয়া হয়, আর তাতেই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। মিথিক এআই-এর “অ্যানালগ কম্পিউট-ইন-মেমোরি” প্রযুক্তি এই সমস্যাটাই সমাধান করে— হিসেব-নিকেশ হয় মেমোরির ভেতরেই, ফলে বিদ্যুৎ খরচ ও ল্যাটেন্সি (দেরি) দুটোই কমে।
ভারতে কী কী বাজার খুঁজছে মিথিক এআই
কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইও তানের ওজচেলিক জানিয়েছেন, ভারতে তাঁরা মূলত চারটি ক্ষেত্রে সুযোগ দেখছেন—
- ডেটা সেন্টার: এআই কম্পিউটিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাপও বাড়ছে, এখানেই সবচেয়ে বড় সুযোগ
- অটোমোটিভ: হোন্ডার সঙ্গে যৌথ চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের সফটওয়্যার-চালিত গাড়ির জন্য চিপ তৈরি হচ্ছে
- রোবোটিক্স ও ফ্যাক্টরি অটোমেশন: কারখানায় মোবাইল রোবটের ব্যবহার বাড়ছে
- প্রতিরক্ষা: ড্রোন ও সেন্সর প্রযুক্তিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ
ওজচেলিক ব্যক্তিগতভাবে চান, একদিন ব্যাঙ্গালুরুর রাস্তায় তাঁদের চিপ-চালিত স্বয়ংক্রিয় গাড়িও দেখা যাক।
দল বাড়ছে দ্রুত গতিতে
ভারতের অপারেশন সামলাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোজ কুমার। এখন প্রায় ২০ জন কর্মী আছেন, ২০২৭-এর প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সেই সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। ব্যাঙ্গালুরুর ডিজিটাল, অ্যানালগ, সফটওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর-টেস্টিং দক্ষতাকেই এই শহর বেছে নেওয়ার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন কুমার।
শুরুতে ব্যাঙ্গালুরু কেন্দ্র কাজ করবে পরবর্তী প্রজন্মের “ভ্যানগার্ড” প্ল্যাটফর্ম নিয়ে— ফ্রন্ট-এন্ড ডিজাইন, ফিজিক্যাল ডিজাইন, ডিজাইন-ফর-টেস্ট। পরে যুক্ত হবে প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেস্টিং ও ইন্টেলিজেন্ট সেন্সিং।
টাকা আর প্রযুক্তি— পেছনের গল্প
২০১২ সালে অস্টিন, টেক্সাসে প্রতিষ্ঠিত মিথিক এআই ২০২৫-এর ডিসেম্বরে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় ফান্ডিং রাউন্ড পেয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিল ডিসিভিসি। এরপর জার্মান কোম্পানি ভিদিয়ানটিস অধিগ্রহণ করে তারা, যাদের চিপ ইতিমধ্যে প্রায় তিন কোটি গাড়িতে চলছে।
এনভিডিয়ার জিপিইউ-র শক্তি-সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে মিথিক এআই, আর ভারত তাদের সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।











