পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং: ভারতে নতুন এআই গবেষণা কেন্দ্র

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন চলাকালীন একটি বড় ঘোষণা এলো ভারত থেকে। চালু হলো ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং, সংক্ষেপে আইএইচএফ। সহজ ভাষায় বললে, এটা এমন একটা গবেষণা ও নীতি নির্ধারণী সংস্থা, যার একটাই লক্ষ্য— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেন চাকরি কেড়ে নেওয়ার বদলে সাধারণ মানুষের রোজগার বাড়ায়।

চটজলদি জেনে নিন

  • ভারতে চালু হলো ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং, এআই নিয়ে নতুন গবেষণা উদ্যোগ।
  • ৯০ শতাংশ অসংগঠিত কর্মীর আয় বাড়াতে পারে এআই, তবে ঝুঁকিও আছে।
  • লাইভলিহুডস ল্যাব, জবস অবজারভেটরি ও পলিসি প্রোগ্রাম— তিন ধাপে চলবে কাজ।
  • সরকার বলছে, এই উদ্যোগ ইন্ডিয়াএআই মিশনের লক্ষ্যকেই এগিয়ে নেবে।

কারা তৈরি করলেন ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং?

উদ্যোক্তা রবি ভেঙ্কটেশন এই ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং প্রতিষ্ঠা করেছেন, আর এর সিইও হলেন উর্বশী আনেজা। রকফেলার ফাউন্ডেশন এবং শ্মিট ফিল্যানথ্রপিজ় এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ভারত সরকারের হিউম্যান ফ্লারিশিং সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ ভারতের জন্য এত জরুরি?

ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন— কৃষক, কারিগর, ছোট দোকানদার। এআই ঠিকমতো কাজে লাগানো গেলে এঁদের আয় বাড়তে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে চিন্তার কারণও আছে— আইটি আর বিপিও সেক্টরে এন্ট্রি-লেভেল চাকরি, যা বহু মানুষের মধ্যবিত্ত জীবনে ঢোকার প্রথম সিঁড়ি ছিল, ধীরে ধীরে কমে আসছে। রবি ভেঙ্কটেশনের কথায়, “ভারতের সামনে সুযোগ আছে বিশ্বকে একটা আলাদা মডেল দেখানোর— যেখানে এআই গণ-বেকারত্বের বদলে গণ-সমৃদ্ধির হাতিয়ার হয়ে উঠবে। কিন্তু এটা এমনি এমনি হবে না।”

ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ফ্লারিশিং আসলে কী কী করবে?

আইএইচএফ মূলত তিনটি বিভাগে কাজ করবে—

  • লাইভলিহুডস ল্যাব: সত্যিকারের কর্মক্ষেত্রে মানুষ ও এআই কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তার লাইভ পরীক্ষা চালানো হবে, আর সব ফলাফল প্রকাশ্যে জানানো হবে।
  • এআই অ্যান্ড জবস অবজারভেটরি: শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে “ইনডেক্স অফ হিউম্যান ফ্লারিশিং” নামে একটি সূচক তৈরি হবে, যা শুধু আয় নয়, মর্যাদা ও সামর্থ্যও মাপবে।
  • পলিসি অ্যান্ড ন্যারেটিভ প্রোগ্রাম: গবেষণার ফল নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো হবে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে মিলে।

সিইও উর্বশী আনেজা বলেছেন, “প্রশ্নটা আর এআই কাজের ধরন বদলাবে কিনা, তা নয়— সেটা তো হচ্ছেই। আসল প্রশ্ন হলো, এই বদল অসংগঠিত ক্ষেত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আয় বাড়াবে কিনা।”

সরকারের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “ভারতের এআই নীতি বরাবরই অন্তর্ভুক্তিমূলক— প্রযুক্তি এখানে সবার জন্য সুযোগ তৈরির একটা মাধ্যম। অসংগঠিত ক্ষেত্রে জীবিকা কীভাবে মজবুত করা যায়, তার প্রমাণ তৈরি করা আইএইচএফ ইন্ডিয়াএআই মিশনের কাজকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

 

নিউ ইয়র্কে রকফেলার ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত লঞ্চ অনুষ্ঠানে মজিলা ফাউন্ডেশনের সিটিও রাফি ক্রিকোরিয়ান এবং কার্যা-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা মনু চোপড়াও প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ