পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা: তিন বছরে ৩০ লক্ষ কারিগরের নিবন্ধন

কামার, কুমোর, ছুতোর কিংবা স্বর্ণকার—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতের কাজে যাঁরা দেশের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের জন্যই শুরু হয়েছিল পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে। এই উপলক্ষে MSME মন্ত্রক (অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক) জানিয়েছে, ৩০ লক্ষ ঐতিহ্যবাহী কারিগরকে নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

চটজলদি জেনে নিন

  • এই প্রকল্প আসলে কী?
  • এটি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প, অর্থাৎ পুরো খরচ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
  • বরাদ্দ ১৩,০০০ কোটি টাকা।
  • মেয়াদ ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত।

এই প্রকল্প আসলে কী?

এটি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প, অর্থাৎ পুরো খরচ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বরাদ্দ ১৩,০০০ কোটি টাকা। মেয়াদ ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত।

প্রকল্পের তিন স্তম্ভ—সম্মান, সামর্থ্য ও সমৃদ্ধি। লক্ষ্য হলো গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে, মানে পরিবারের ভেতরে হাতে-কলমে শেখা দক্ষতাকে, আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া। কাজটি যৌথভাবে সামলাচ্ছে MSME মন্ত্রক, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক এবং অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় কারা আবেদন করতে পারবেন?

  • বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি
  • ১৮টি নির্ধারিত ঐতিহ্যবাহী পেশার যেকোনও একটিতে অসংগঠিত ক্ষেত্রে স্বনিযুক্ত
  • গত ৫ বছরে একই ধরনের সরকারি স্বনির্ভর ঋণ নেননি (MUDRA বা PM SVANidhi-র ঋণ পুরো শোধ করলে আবেদন করা যাবে)
  • পরিবারের মাত্র একজন সুবিধা পাবেন
  • সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার বাদ

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় কী কী সুবিধা মিলছে?

  • পরিচয়: PM Vishwakarma সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড
  • দক্ষতা প্রশিক্ষণ: ৫–৭ দিনের বেসিক এবং ১৫ দিন বা তার বেশির অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণ, সঙ্গে দৈনিক ৫০০ টাকা ভাতা
  • টুলকিট প্রণোদনা: আধুনিক যন্ত্র কিনতে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ই-ভাউচার
  • জামানতমুক্ত ঋণ: ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, দুই কিস্তিতে (১ লক্ষ ১৮ মাসের জন্য, ২ লক্ষ ৩০ মাসের জন্য)। সুদ ৫%, আর সরকার সর্বোচ্চ ৮% পর্যন্ত সুদ ভর্তুকি দেয়
  • ডিজিটাল লেনদেন: প্রতি যোগ্য লেনদেনে ১ টাকা, মাসে সর্বোচ্চ ১০০টি পর্যন্ত
  • বাজার: ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া, ট্রেড ফেয়ার, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিং সহায়তা

তিন বছরে অগ্রগতি কতটা?

  • ৩০ লক্ষ যাচাই-করা উপভোক্তা নিবন্ধিত
  • ২৪.৩৭ লক্ষের বেশি কারিগর বেসিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন
  • ১৮.১৫ লক্ষ আধুনিক টুলকিট ইন্ডিয়া পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছেছে
  • ৬.১৮ লক্ষের বেশি ঋণ মঞ্জুর, মোট প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকা
  • ৩০,০০০-এর বেশি কারিগর ই-কমার্সে যুক্ত

এ ছাড়া তারকা হোটেল ও রিসর্টে কারিগরদের হস্তশিল্পের স্টল বসানো হয়েছে। TRIFED-এর অংশীদারিতে আদিবাসী কারিগররা পৌঁছেছেন Tribes India-র নেটওয়ার্কে।

এর গুরুত্ব কোথায়?

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল লেনদেন আর প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের হাত ধরে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে ঢুকছেন। এই পেশাগুলিতে বেশি যুক্ত SC, ST, OBC ও গ্রামীণ পরিবার। তাই পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা গ্রামীণ জীবিকা মজবুত করার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা হস্তশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে রোজগারের পথ করে তুলতে চায়।

 

সব মিলিয়ে, পুরনো দক্ষতার শিকড় অটুট রেখে আধুনিক বাজারের সঙ্গে কারিগরদের জুড়ে দেওয়াই পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মূল ভাবনা।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ